কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য্য-
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য্য- এই ৬টি রিপু প্রতিটা মানুষের মধ্যেই বিরাজমান। যে যত বেশি রিপুর পূজা করবে তার আত্মায় তত বেশি পচন ধরবে, নৈতিক পদস্খলন ঘটবে, তার দ্বারা পাপকর্ম হবে। আর পাপে যখন সমাজ পূর্ণ হয় তখন সে সমাজের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাই সুফী-সাধক, মুনি-ঋষি তথা ধার্মিক ব্যক্তিগণ নিরন্তর এই রিপুকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং সকলকে রিপু নিয়ন্ত্রণের উপদেশ দিয়ে যান।
.
মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় তার আত্মা দ্বারা। রিপুর পূজা করলে আত্মা দুর্বল হতে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রিপুর কাছে। যখন একটা মানুষকে তার রিপু নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে তখন সে ধর্মহীন পশুতে পরিণত হয়। তার গায়ে লেবাস পরানো যায় ঠিকই কিন্তু তার দ্বারা ধর্মের কার্য হয় না। নানা রকম অন্যায় কার্য করতে থাকে। তাই রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করা অতীব জরুরি।
.
বর্তমান সভ্যতা আত্মাহীন, রিপুনির্ভর। নিয়ন্ত্রণের বদলে বিভিন্নভাবে রিপুকে বরং জাগ্রত করা হয়। উদাহরণের জন্য কেবল একটি রিপুর কথা এখানে বলব-
কাম-রিপু: মনে যে ভাবের উদয় হলে নারী পুরুষের প্রতি ও পুরুষ নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় সেটিই হলো কাম-রিপু। ষড়রিপুর মধ্যে কাম রিপু জয় করা সবচেয়ে কঠিন। এই রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমাজে ব্যাভীচার, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, বিকৃত যৌনাচার ইত্যাদি অপরাধ অতিমাত্রায় বেড়ে যায় এমনকি মানুষ জৈবিক তাড়নায় জ্ঞানশূন্য হয়ে খুন-খারাবি, প্রতারণা ইত্যাদি করে বসে এবং এটাতে ব্যর্থ হলে নেশা দ্রব্য গ্রহণ করতে থাকে।
.
এ কারণে কাম রিপুকে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটা ধর্মই নানারকম উপদেশ দিয়েছে, নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ইসলাম করেছে ভারসাম্যপূর্ণ (প্রচলিত আপাদমস্তক আবৃত পর্দা প্রথা নয়) হেযাবের ব্যবস্থা। আর বর্তমান সভ্যতা কাম রিপুকে উসকে দেওয়ার জন্য যতরকম আয়োজন করা যায় সব করেছে। নারীকে বানিয়েছে ভোগ্য পন্য, নারীর দেহকে প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রতিট বিজ্ঞাপনে, চলচ্চিত্রে, খেলা-ধুলায় এক কথায় প্রায় সমস্ত অঙ্গনেই।
.
এখানে কেবল একটি রিপুর উদাহরণ দিলাম, বাকিগুলো আপনিই মিলিয়ে দেখুন- প্রতিটি রিপুকেই এভাবে উসকে দেওয়া হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। তাহলে সমাজে অপরাধ ধাই ধাই করে বেড়ে যাওয়া দেখে অবাক হচ্ছেন কেন? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে যতই অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত করেন কোনো লাভ হবে না, ক্ষমতাবানদের নিরাপত্তা হয়ত নিশ্চিত হবে কিন্তু যখনই আপনি ক্ষমতা হারাবেন তখনই আপনি অনিরাপদ।
.
যতদিন মানুষের আত্মার পরিবর্তন না করা যাবে ততদিন এভাবে অপরাধ বাড়তেই থাকবে। আর অপরাধের ঘড়া পূর্ণ হলে সমাজের ধ্বংস অনিবার্য। এখন সিদ্ধান আমাদের- আমরা কি সমাজকে ধ্বংস করে দিব নাকি অনাগত সন্তানদের জন্য এক অন্য পৃথিবী গড়ে দিয়ে যাব।

Comments
Post a Comment